পটুয়াখালীর সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বীর কোটি টাকার ছড়াছড়ি!

Sharing is caring!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ফজলে রাব্বী, পদবীতে তিনি সাব-রেজিস্টার। একজন সরকারী সাব-রেজিস্টারের বেতনেই বা কত? অথচ নিজ এলাকায় অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। পরিবার জুড়েই এখন কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি। ফজলে রাব্বী এতো অঢেল সম্পদ আর কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন কিভাবে? একজন সাব-রেজিস্টারের পক্ষে কিভাবে সম্ভব অর্থবিত্তের মালিক হওয়া। তাও আবার মাত্র দুই দশকে? এসব প্রশ্ন এখন ফজলে রাব্বীর নিজ গ্রামের মানুষের মুখে মুখে?

ফজলে রাব্বী গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বড় ছত্রগাছা গ্রামের (অব:) প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক হাজী আজগর আলীর বড় ছেলে। ভূমি নিবদ্ধন অধিদপ্তর (আইজিআর) অফিসের হেড ক্লার্ক পদে চাকুরী শুরু করে ফজলে রাব্বী সাব-রেজিস্টারের পদোন্নতি পান ২০১৬ সালে। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কর্মরত। দুমকি ও গলাচিপা উপজেলাতেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেরই ধারণা ; অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতিসহ নানা উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ফজলে রাব্বী। অবৈধ্য আয়ের টাকায় গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। দুই হাতে উজার করে আপন তিন ভাই ও আত্মীয়স¦জনকে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মাত্র দুই দশকেই পুরো পরিবারেই এখন অর্থ-বিত্তের ছড়াছড়ি। এই পরিবার এখন ‘কোটিপতি ও ধনাঢ্য পরিবার’ হিসেবেই পরিচিত। এলাকাতে ফজলে রাব্বীকে রাজা ‘কোটিপতি রাজা’ নামেই চেনে।

অথচ ২০ বছর আগেও পরিবারের সদস্যর দৈনন্দিন জীবন ছিলো অভাব-অনাটনে। স্কুল শিক্ষক বাবার সামান্য আয়ে সংসারের ব্যায় মিটতো না। কিন্তু সেই চিত্র এখন একদম ভিন্ন। ফজলে রাব্বীর পরিবারের গল্পটাই বেশ ঐক্য আর উৎসাহের। কিন্তু হঠাৎ করেই ঐক্য-উৎসাহের ছন্দপতন ঘটে ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সড়িয়ে ফেলার ঘটনায়। অবিশ্বাস-দ্বন্দ-বিভেদে সম্পদের হিসেব, অংশ আর ভাগভাগি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে মুখোমুখি হন ফজলে রাব্বী। প্রভাব বিস্তারসহ এক ভাই অপর ভাইয়ের বিরুদ্ধে তোলেন প্রতারণা, আত্মসাত, দখল-বাণিজ্য ও হুমকি-ধামকিসহ নানা অভিযোগ। নিজেদের ভাঙনে দ্বন্দ-দুর্নীতির ঘটনা উঠোন পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে জনসম্মুখে। সমালোচনার ঝড় ও নানা গুঞ্জণ দেখা দেয় স্থানীয়দের কানে মুখে। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে দুদকের তদন্তের দাবী জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের গুঞ্জণে মাসব্যাপী দীর্ঘ অনুসন্ধানে সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বীর পরিবারে বৈধ-অবৈধ ৩০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-উপাত্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। দৃশ্যমান সম্পদ ও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন লেনদেনেই দেখাচ্ছে এমন যোগসাজস। অনুসন্ধানে ব্যাংক থেকে ব্যাগ ভর্তি কোটি টাকা উত্তোলন ও ঘুষ-দুর্নীতি করে সাব-রেজিস্টি অফিসে আদায় করা ২ লাখ ৬ হাজার টাকা ভাগাভাগির (কথোপকথোন, অডিও) ও অনিয়ম-দুর্নীতির অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। এসব অডিও এখন প্রতিবেদকের হাতে।

অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানান, (সময়টা ১৯৮৮ থেকে ২০০৩ সালের কথা)। বড় ছত্রগাছা গ্রামের স্কুল শিক্ষক হাজী আজগর আলীর এক মেয়ে ও চার ছেলে নিয়ে সংসার। নিজের সামান্য আয়ে অভাব-অনাটনে দৈনন্দিন জীবন ছিলো তার। এক সময় দানে পাওয়া ৩৫ শতক জমিতেই স্ত্রী, এক মেয়ে ও চার ছেলে নিয়ে বসবাস করেন আজগর আলী। অভাবের কারণে বড় ছেলে ফজলে রাব্বী ঢাকায় গিয়ে মামার ঠিকাদারী সাইট দেখা শুনা করতেন। মেঝ ছেলে সিদ্দিকুর রহমান খাজা চাকুরী নেয় গ্রামীণ ব্যাংকে। ছোট ছেলে আতিকুর রহমান রোকন পাড়ি জমান কুয়েতে এবং গ্রামেই তখন জুয়েল ছিলেন বীমা কোম্পানীতে।

পরবর্তীতে ঠিকাদার মামার কল্যানে ১৯৯৩ সালে ভূমি নিবদ্ধন অধিদপ্তর (আইজিআর) অফিসের হেড ক্লার্ক পদে চাকুরী পান ফজলে রাব্বীর। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ফজলে রাব্বীকে। ফজলে রাব্বীর পরামর্শে তিন ভাই ফেরেন গ্রামে। ধাপেরহাট বন্দরে খাজার কাপড়ের ব্যবসা ও রোকন করেন ট্রাক-মাইক্রোবাসের ভাড়া ব্যবসা। পরে হাজী ট্রেডার্স নামে তিনি ভাই শুরু করেন যৌথ ব্যবসা। তবে ব্যবসার পুজি, মালামাল সরবরাহ সবেই করতেন ফজলে রাব্বী। বছর ঘুরতে না ঘুরতে ব্যবসার প্রসার বৃদ্ধিসহ কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি আর জায়গা জমি ক্রয় করতে থাকেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই দশকের চাকুরী জীবনে ধাপেরহাট বন্দরে কোটি টাকার জমিতে গড়ে তুলেছেন একাধিক ভবন। আশপাশের এলাকায় রয়েছে আরও একাধিক সম্পত্তি। স্ত্রী রিমার নামে বাবার বাড়িতে একাধিক সম্পত্তি ও বাসা-বাড়ি গড়ে তুলেছেন। আপন তিন ভাই, বোন জামাইয়ের নামেও সম্পত্তি, বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক ঘেঁষে নিজ ও ভাইদের নামে রয়েছে তিনি বিঘার বেশি জমি। বর্তমান জমিতে একাধিক বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। এছাড়া ধাপেরহাট শহীদ মিনার সংলগ্ন দ্বোতলা বাসাবাড়ি, মার্কেট এবং আ.লীগ পার্টি অফিস সংলগ্ন বাসা-বাড়ি ও মার্কেটে দোকান ঘর রয়েছে। এই জমি ও ভবন মিলেই বর্তমান বাজার মুল্যে অন্তত ১৫ কোটির কম নয়। এছাড়া একাধিক গাড়ি, নিজ গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় আবাদি জমিগুলোও কারো অদেখা নয়।

শুধু তাই নয়, এক বছরও হয়নি ফজলে রাব্বীর ছোট ভাই আতিকুর রহমান রোকন নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে শশুর বাড়িতে দুই কোটি টাকার জমি কিনেছেন। এরমধ্যে ধাপেরহাট বন্দরের অদুরে তেল পাম্প এলাকা ও আমবাগান রোড় এলাকাতে কিনেছেন এক কোটি টাকার জমি। রংপুর, দিনাজপুর, পীরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও ধাপেরহাটসহ বিভিন্ন ব্যাংক-বীমায় জমিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। স্ত্রীর নামেও ব্যাংক-বীমায় ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন কোটি টাকার। এছাড়া ছোট ভাই জুয়েলেও অবস্থাও একই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঘনিষ্ঠস¦জনরা জানায়, স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বী ঢাকাতে বসবাস করেন। তিনি শান্তিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও তার রয়েছে দুটি ফ্লাট ও গাড়ী। স্ত্রীর ভাইদের নামেও রংপুর ও শঠিবাড়িতে রয়েছে কোটি টাকার সম্পত্তিসহ কয়েকটি বাসাবাড়ি। শুধু তাই নয়, সুচতুর ফজলে রাব্বী নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে জমা রেখেছেন কয়েক কোটি টাকা।
অভিযোগ আছে, ভূমি অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় নিজের প্রভাব ভালোভাবেই বিস্তার করেন। সিন্ডিকেট করে অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্যর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন ফজলে রাব্বী। দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে ফিরে পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করায় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-বাণিজ্যর অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাতে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়।

সম্প্রতি স্ত্রী রিমা, শ্যালক রানা, একরামুল ও মামা স্বাধীনকে পলাশবাড়ী আল আরাফা ব্যাংক শাখায় পাঠিয়ে ব্যাগ ভর্তি কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। ব্যাগ ভর্তি কোটি টাকার লেনদেন (স্ত্রীর সাথে সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বীর মোবাইলে কথোপকথন) ফাঁস হওয়ায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন এতো টাকা কিসের, তিনি কোথায় পেলেন, কার কাছে নিলেন এতো টাকা।

অপরদিকে, সাব-রেজিস্টি অফিসে ৭৬ দলিলে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা ভাগাভাগি (অফিস সহকারী কামাল হোসেনের সাথে কথোপকথোন, অডিও) প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

ফজলে রাব্বীর আপন ভাই সিদ্দিকুর রহমান খাজা বলেন, বড় ভাই ফজলে রাব্বী বিভিন্ন সময় তাদের কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন। সেই টাকায় তিন ভাই ব্যবসা করেছেন। ব্যবসার লাভের টাকা ও ফজলে রাব্বীর টাকায় তারা একাধিক জমি, বাড়ি-গাড়ি করেছেন। ফজলে রাব্বীর স্ত্রী রিমার ভাইদের দিয়েছেন কোটি টাকা, তাদের নামেও রয়েছে বাড়ি-গাড়ি। তবে খাজার অভিযোগ, যৌথ ব্যাংক একাউন্ট থেকে ছোট ভাই জুয়েল মিলে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা গোপনে উত্তোলন করেন। পরে দুই ভাই মিলে এক মাস মেয়াদী ইসলামী ব্যাংক রংপুর শাখায় চারটি এফডির করেন। কিন্তু মাস শেষে টাকা তুলতে গিয়ে সেই টাকা নিয়ে লাপাত্তা হন ছোট ভাই জুয়েল। এরপর ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ শুরু হলে ব্যবসা ভাগ হয়ে যায়। ভাইয়ের কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি এখন নি:স্ব হয়েছেন। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ভাগ চেয়ে থানায় জিডি ও ব্যাংকে অভিযোগ করেও আজও কোন প্রতিকার পাননি তিনি। এসব নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ, ভাগ ও অংশ নিয়ে উত্তোজনা চলছে। সম্প্রতি ফজলে রাব্বী নিজের ভাগ বুঝে নিতে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়েও প্রভাব বিস্তার করছেন।

এদিকে, ফজলে রাব্বীর পরিবারে অঢেল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি থাকলেও আয়করে দাখিল করা সম্পদের পরিমান কোটি টাকারও কম। অঞ্চলিক কর কর্মকর্তার কার্যালয় (কর অঞ্চল সার্কেল ১৯, গাইবান্ধা) সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ সালে শুধু জুয়েল নামমাত্র আয়কর দিতেন। ২০১৪- ১৫ সালে সিদ্দিকুর রহমান রোকন, আতিকুর রহমান রোকন ও জুয়েল মিলে যৌথ সম্পত্তি দাখিল করে আয়কর দেয়। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জুয়েল কর দেয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। আতিকুর রহমান রোকন সম্পদের বিবরণ দাখিল করলেও সিদ্দিকুর রহমান খাজা শুধু টিএন নাম্বার নিয়েছেন। সব মিলে গেল অর্থ বছরে তাদের দাখিল করা রির্টাণে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় এক কোটি টাকার কম। তবে সাব-রেজিস্টার ফজলে রাব্বীর আয়কর জমার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়কর বিভাগের গাইবান্ধা কর অঞ্চল-১৯ সার্কেল অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে জানান, সম্পদ গোপনের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সাব-রেজিষ্টার ফজলে রাব্বীর সাথে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার নামে কোন সম্পদ নাই। তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ আড়াল করতেই ভাইদের নামে কোটি টাকা ও সম্পদ রয়েছে বলে স্বীকার করেন। এই সম্পদ তারা কিভাবে করেছে, তা অনুসন্ধান করার কথাও বলেন তিনি। এসব বিষয়ে ফজলে রাব্বীর ভাই আতিকুর রহমান রোকন ও জুয়েলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গোপন ক্যামেরায় ফজলে রাব্বীর ছোট ভাই জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা তো সরকারী চাকুরী করিনা, তদন্ত করে যদি কোন ব্যবস্থা নেয়, তাতে সমস্যা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা রেজিস্টার প্রভাকর সাহার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয় জানা নেই। এছাড়া অনিয়ম,ঘুষ-দুর্নীতি এবং অঢেল সম্পদ অর্জনের বিষয়েও কোন অভিযোগ তার কাছে নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এসএম রহমান বলেন, অল্প সময়ে সাব- রেজিস্টার ফজলে রাব্বী ও তার পরিবার কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছে। অথচ তারা সম্পদ গোপন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। তাদের সম্পদ অর্জনের রহস্য, সম্পদের পরিমাণ ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *